মোয়াম্মার গাদ্দাফির মূল্যায়ন

কর্ণেল মোয়ামার গাদ্দাফি মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে লিবিয়ার রাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে,  এক সেনা অফিসার থেকে পূর্ণ শাসন ক্ষমতার অধিকারী হন ।

আর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই গাদ্দাফি পশ্চিমী দুনিয়ার এক সোচ্চার সমালোচক হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন । সামরিক পোশাক ছেড়ে তিনি তার আরব পোশাক পরা শুরু করে ।  আরব জাহানের গর্ব নিয়ে আরব দেশগুলোকে সম্মিলিত করার চেষ্টা করেন । তার আকর্ষণীয় পোশাক, জ্বালাময়ী ভাষণ এবং মহিলা দেহরক্ষী তাকে বিশ্ব মঞ্চে এক বিসেষ নেতা হিসেবে পরিচিত করে তুললো ।

ঠিক তাই । যেমন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালযের পলিটিকাল সাইকলজি  কর্মসুচীর পরিচালক জেরল্ড পোস্ট বললেন আমরা তার অদ্ভূত আচরণের দিকে নজর দিই, কিন্তু একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয় যে তিনি যথেষ্ট কার্যকর ভুমিকা রাখেন বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার খুবই কার্যকর ভুমিকা ছিল  ।

গাদ্দাফি জামহুরিয়া অর্থাত্ জনগনের রাষ্ট্র নামে এক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন । তার বিখ্যাত সেই গ্রীন বুকে তার আদর্শের রুপরেখা বর্ণনা করেন । তিনি বলতেন, লিবিয়া হচ্ছে তার নেতৃত্বে জনগনের শাসিত রাষ্ট্র । তবে মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ড্যানিয়েল সেরওয়ার যেমন বললেন, সেইভাবে কিন্তু তা পরিচালিত হয় নি ।

তিনি লিবিয়ানদের শিখিয়েছিলেন কিভাবে নিজেদের শাসনের জন্য পরিষদ গঠন করতে হয় । তবে তাদেরকে স্বশাসন দেননি । এ ছিল একনায়কত্ব । সেরওয়ারের মতে লিবিয়ার গ্যাস ও তেল সম্পদ দেশে বিদেশে, গাদ্দাফির প্রভাব প্রসারিত করেছিল । গাদ্দাফি লিবিয়ার সংহতিরও প্রতীক হয়ে দাঁড়ান ।

সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লিবিয়ার সংযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছিল । ১৯৮৬ সালে জার্মানীর এক নৈশক্লাবে বোমা হামলার জন্য তাকে দায়ী করা হয়, ওই হামলায় ২জন আমেরিকান সেনা নিহত হয় । আর ১৯৮৮ সালে স্কটল্যাণ্ডের লকারবিতে প্যান আমেরিকান ফ্লাইট 103র ওপর বোমা হামলা যাতে ২৭০ জন প্রান হারায় সেই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেন গাদ্দাফি । যাই হোক ২০০৩ সালে পশ্চিমের সঙ্গে একটা সমঝোতার উদ্যোগ নেন । গাদ্দাফি গনসংহারক অসত্র ও সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা করেন ।

<!–AV–>

তবে তার নিজের দেশে আরব বসন্তের ঢেই জাগলো, হাজার হাজার লিবিয়াবাসী গাদ্দাফির স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জানালো । তারপর বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলই তার বিরুদ্ধে চলে গেল । আর সেই আরব স্প্রিংএর সঙ্গে সঙ্গে বহু মানুষ যারা লিবিয়ায় কাজকর্ম করতেন তাদের ঘরে ফিরে যেতে হলো । আর তখন হাজার হাজার বাংলাদেশী ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হন ।  এমনি এক বাংলাদেশী শিমুল শিকদার তার সঙ্গে কথোপকথন । তিনি লিবিয়ায় ২২ মাস কাজ করেছেন ।  তিনি কেন দেশে ফিরে গেলেন, এখন গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর তার অনুভুতি কি ? কি ভাবছেন সে কথাই জানালেন ।

[Read More]

—–
Source: VOA News: Economy and Finance


 

Comments are closed. Please check back later.

 
 
 
1