বাংলা গানের বিবর্তন : তৃতীয় পর্ব

বাংলা গানের বিবর্তন নিয়ে আমাদের এই সাপ্তাহিক আয়োজনের  তৃতীয় পর্বে আমরা আলোকপাত করেছি গায়িকাদের  প্রসঙ্গে  এবং আলোচনা করেছি রাম প্রসাদী শ্যামা সঙ্গীত নিয়ে। সেই বিশ শতকের গোড়ার দিকেই , গায়িকাদের সংখ্যা ও নিতান্তই কম ছিল না। ভারতীয় উপমহাদেশে সঙ্গীতে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারা ও সক্রিয় ছিলেন সেই সময় থেকে। এই যেমন আমরা গত সপ্তায় বলছিলাম মিস  গওহরজানের কথা ।

একটা সময় ছিল যখন মেয়েদের সঙ্গীত –নৃত্য ভারতবর্ষে সীমিত ছিল যাদের  বাঈজি বলা হতো প্রধানত  তাদের মধ্যেই  । কিন্তু  এই কুড়ি শতকের একেবারে গোড়ার দিকে অনেকেই সেই ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং যে সব গায়িকা , গানকে একটি স্বতন্ত্র পারফর্মিং আর্ট হিসেবে নিয়েছেন , তাদের মধ্যে রয়েছেন মিস গওহর জান , অমলা দাস, বিনোদীনি দাসী, মিস  কমলা ঝরিয়া,   মিস মানিক মালা প্রমুখ।

লক্ষ্য করেছেন নিশ্চয়ই যে নিধূ বাবুর টপ্পার  মধ্যে যে একটি  ধর্মনিরপেক্ষ রোমান্টিক ভাব আমরা দেখেছিলাম, তা থেকে এই  অমলা দশের  গানটি বেশ ভিন্নধর্মী । এখানে স্পষ্টতই আধ্যাত্মিক চেতনা কাজ করছে এবং এক ধরণের সমর্পণের অনুভুতিটা ও বেশ পরিস্কার।

এই ধর্মীয় অনুভূতিটা  আরো তীব্র হয় এই সময় রামপ্রসাদী গানে । রামপ্রসাদ সেনের  জন্ম অবশ্য অনেক আগে। ১৭১৮ কিংবা মতান্তরে ১৭২৩ সালে। মৃত্যু ১৭৭৫ সালে । রামপ্রসাদ সেন ১৮ শতকের একজন প্রধান শাক্ত কবি। তাঁর ভক্তি মূলক কবিতাগুলি , রামপ্রসাদী গানে ও রূপান্তরিত হয়।তিনি নদীয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের দরবারে কবি ছিলেন।  রাজা কৃষ্ণচন্দ্রই যেহেতু সাড়ম্বরে কালীপুজার আয়োজন করতেন সেই কারনে। শাক্তসঙ্গীত বা  শ্যামা সঙ্গীতের  প্রচলন সেখানে। রামপ্রসাদী গানের একটা বৈশিষ্ট হলো এতে বাউল অঙ্গের গানের  লোকজ সুরের সঙ্গে , কীর্তনের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের  একটা সম্মিলন ঘটল।

 

 

[Read More]

—–
Source: VOA News: Economy and Finance


 

Comments are closed. Please check back later.

 
 
 
1