স্টেট্‌সন স্যান্ডার্সঃ আফগানিস্তানের নির্বাচনে মহিলাদের অংশগ্রহণ অনুপ্রেরণা জোগায়

সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হল আফগানিস্তানের সংসদ নির্বাচন। আফগানিস্তানের এবারের নির্বাচনে ৩৬ লাখেরও বেশি আফগান ভোট দিয়েছে।

তাই আফগানিস্তানের গাজনী প্রদেশের প্রাদেশিক পুনর্গঠন টিমের প্রধান স্টেট্‌সন স্যান্ডার্স বেশ অনুপ্রাণিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে এক বছরের জন্য আফগানিস্তানে থাকবেন। <!–IMAGE–>

 

ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন “আমার মনে হয় এটা একটা বিরাট পদক্ষেপ যা আফগানিস্তানকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যারা এই নির্বাচন পরিচালনা করেছে, সব প্রস্তুতি নিয়েছে, যারা সব হুমকি উপেক্ষা করে নির্বাচনের দিন ভোট দিয়েছে, তাদের জন্য আফগানদের গর্ববোধ করা উচিৎ।”

২৪৯ আসনের জন্য যে নির্বাচন হয়, তা বানচালের হুমকি দেয়ার পর তালেবানরা ভোট গ্রহণের সময় ২৮০ বারেরও বেশি হামলা চালায়। তবুও বহু মানুষ ভয় পেয়ে বাসায় বসে না থেকে ভোট দেয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রে হাজির হয়। <!–IMAGE–>

স্টেট্‌সন স্যান্ডার্স জানান, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশই ছিলো মহিলা।

তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের মত রক্ষনশীল দেশ যেখানে গত পনেরো বিশ বছর ধরে মহিলাদের তেমন কোন ভূমিকা ছিলো না, সেখানে আমি মনে করি এটা একটা বিরাট অগ্রগতি।” প্রায় ৪০০জন মহিলা এবারের নির্বাচনে দাড়িয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকের সাথেই দেখা করার সুযোগ হয়েছে তাঁর।

বেশ আবেগের সাথেই তিনি বলেন, “তারা সবাই দৃঢ়চেতা, সাহসী, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং আবেগপ্রবণ মহিলা। তাদের অংশগ্রহণ আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায়।” <!–IMAGE–>

নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসবাদিরা বেশ কয়েকজন নির্বাচন প্রার্থিকে অপহরণ করেছে, এবং কয়েকজনকে মেরেও ফেলেছে। যেসব আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি দেখা যাবে সেইসব আঙ্গুল তারা কেটে ফেলারও হুমকি দিয়েছিলো। এই কালি ভোটের সময় লাগানো হয়। নির্বাচনের পরে এ পর্যন্ত ২২জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে।

এত সমস্যার মাঝেও মানুষ ভোট দিয়েছে এবং যত সহিংসতার ঘটনা হবে বলে আশংকা করা হয়েছিলো, তা হয়নি।

স্টেট্‌সন স্যান্ডার্স বলেন “আমাদের মনে হয়েছে আফগানিস্তানের সরকার যেভাবে নিরাপত্তা রক্ষা এবং ভোট ব্যাবস্থার মান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছে, তা প্রশংসনীয়।”

তিনি বার বার মনে করে দিয়েছেন যে এটা পুরোপুরি আফগানদের পরিচালিত একটি নির্বাচন ছিলো। তার টিম নির্বাচনের সময় ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলোনা। কিন্তু গাজনী প্রদেশে তাদের একটি দায়িত্ব ছিলো, এ এন এস এফ অর্থাৎ আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সকে সাহায্য করা। <!–IMAGE–>

“যখন আমাদের আফগান সহকর্র্মিরা আমাদের কাছে সাহায্য চেয়েছে তখন আমরা সাহায্য পৌঁছে দিয়েছি। যেমন, এখানে গাজনীতে, নির্বাচনের আগের রাতে আমাদের প্রাদেশিক পুনর্গঠন টিমের কাছে একটি ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছিলো। আমরা তা করেছি। আমরা সেখানে আফগান ন্যাশনাল আর্মির সাথে ছিলাম, তারাই সবকিছু পরিচালনা করেছে, আর আমরা তাদেরকে সাহায্য করছিলাম।”

যদিও যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানকে সাহায্য করছে, এই নির্বাচনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের তেমন কোন মিল নেই।

“এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে অনেক ভিন্ন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের রাতে বা পরের দিনের সকালের মধ্যেই আমরা ফলাফল জানতে পারি। কিন্তু এখানে প্রায় ৫ সপ্তাহ লাগবে ফলাফল চুরান্ত করার জন্য।”

ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে যদিও ইতিমধ্যে ৩ হাজার অভিযোগ এসেছে। কিন্তু ফলাফল যেমনই হোক, স্টেট্‌সন স্যান্ডার্স বলেন তিনি বেশ উৎসাহিত।

তিনি বলছিলেন, “আমি উৎসাহিত এই দেখে যে এই দেশের মানুষ দৃঢ়সংকল্প ও সাহসের সাথে সেসব অধিকার পাওয়ার চেষ্টা করছে যা তাদের প্রাপ্য।” <!–IMAGE–>

তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচন ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য আমি বহু আফগানদের দিন রাত কাজ করতে দেখেছি, তারা ভোট দিয়েও অংশগ্রহণ করেছে। তাই আমি আশাবাদি।”

তাঁর টিমের কাছে এই খবরও পৌঁছেছে যে নির্বাচনের সময় শেষ হওয়ার পরও অনেক মানুষ ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলো। তাদের জন্য বাড়তি সময়ও দেয়া হয়েছিলো। এটা যদি আশার আলো না হয়, তাহলে এটা কি?

স্টেট্‌সন স্যান্ডার্স বার বার বলেন তিনি আশাবাদি। আফগানিস্তান হাল ছেড়ে দেয়নি। আর তাই বাকি বিশ্বেরও এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়া উচিৎ না।

সেহ্‌জীন চৌধূরীর সাথে স্টেট্‌সন স্যান্ডার্সের পুরো সাক্ষাৎকার ইংরেজীতেও শোনা যাবে।

[Read More]

—–
Source: VOA News: Economy and Finance


 

Comments are closed. Please check back later.

 
 
 
1