প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবহুল সপ্তাহের সূচনা করতে যাচ্ছেন

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছুটি কাটানোর পর সোমবার White Houseএ  ফিরে আসছেন। এসেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবহুল সপ্তাহের সূচনা করবেন।ভয়েস অফ আমেরিকার কেন্ট ক্লাইন, White House  থেকে পাঠানো রিপোর্টে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট, আনুষ্ঠানিক ভাবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনার সূচনা করবেন।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের যোদ্ধৃ মিশনের আনুষ্ঠানিক অবসান হবে মঙ্গলবার।

প্রেসিডেন্ট ওবামা সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন সৈনিকদের একটি সংগঠনের সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন এতে তা পূরণ হলো।প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন ‘আমরা যে অঙ্গীকার করেছিলাম তা সময় মতো পালন করছি।’

ইরাকে এখন ৫০ হাজারের কম আমেরিকান সেনা আছে। তিন বছর আগে ইরাকে আমেরিকান সেনার সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৬৭ হাজার।

যে সকল সেনা ইরাকে থেকে যাবে তাদের একটা নতুন মিশন হবে। তারা ইরাকী বাহিনীকে সমর্থন ও প্রশিক্ষন দেবে, সন্ত্রাস দমন মিশনে ইরাকীদের সঙ্গে কাজ করবে, এবং সামরিক ও অসামরিক প্রচেষ্টা সুরক্ষা করবে। ২০১১ সালের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে আমেরিকান বাহিনী চলে আসবে।

সোমবার আমেরিকান জনগনের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা মিশন পরিবর্তনের রূপরেখা প্রদান করবেন। তিনি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মিশান নিরীক্ষন করবেন এবং আফগানিস্তান যুদ্ধের সঙ্গে এর তুলনামূলক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের Institute of Peace এর ইরাক কার্যক্রমের পরিচালক মানাল ওমার বলেন ইরাকীরা বিশেষ ভাবে এই নতুন মিশন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তিনি বলেন ‘প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে এই নতুন সম্পর্ক কেমন হবে। ইরাকীদের মনে সেটাই সবচাইতে বড় প্রশ্ন: এই নতুন সম্পর্কটা কিরকম হবে।’

যুদ্ধের গোড়ার দিকে ইরাকে যত সহিংশ ঘটনা ঘটতো তার চাইতে এখন অনেক কম হয়। তবে সম্প্রতি আক্রমনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর, ইরাকী নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কে এখন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার যখন মিশনে পরিবর্তন ঘটবে তখন ইস্রাইল ও ফিলিস্তিনীদের মধ্যে নতুন দফার সরাসরি আলোচনা যে শুরু হবে তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকজন নেতা ওয়াশিংটনে থাকবেন ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জর্জ মিচেলের মাধ্যমে বেশ কয়েক মাস আলোচনার পর ইস্রাইল ও ফিলিস্তিনীরা নিজেদের এক বছর সময় দিয়েছে ফিলিস্তিনের চুড়ান্ত মর্যাদা সংক্রান্ত সব ইশ্যুর সমাধানের লক্ষ্যে। মিচেল আশা করছেন এই প্রচেষ্টার উপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জর্জ মিচেল বলেন ‘আমার বিশ্বাস যে প্রেসিডেন্ট আব্বাস এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু  খুবই আন্তরিক এবং খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তারা মনে করেন মতৈক্য অর্জন করা সম্ভব। আমরা সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো তাদের সাহায্য করার জন্য যাতে তা অর্জন করা সম্ভব হয়।’

প্রেসিডেন্ট ওবামা বুধবার প্রেসিডেন্ট আব্বাস এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথক ভাবে সাক্ষাত্ করবেন। তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারাক এবং জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহর সঙ্গেও সাক্ষাত্ করবেন। বুধবার রাতে তিনি চার নেতাকে  নৈশভোজে আপ্যায়ন করবেন।

বৃহষ্পতিবার ইস্রাইলী ও ফিলিস্তিনী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টানের সঙ্গে পররাষ্ট্র দফতরে সাক্ষাত্ করবেন।

২০ মাসে এই প্রথম ইস্রাইল ও ফিলিস্তিনীদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হবে।

[Read More]

—–
Source: VOA News: War and Conflict


 

Comments are closed. Please check back later.

 
 
 
1